২০১০-১১ সালে দেড় বছরের মত আমাকে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় থাকতে হয়েছিল। সেখানে গিয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং এর জন্যে। রাজাবাজার এলাকায় থাকতাম তখন। ঢাকার ওরকম জীবন ব্যবস্থার সাথে আগে থেকে পরিচিত ছিলাম নাতো তাই রাতের বেলা বালতি ভরে পানি সংগ্রহ করে রাখা, পানি ফুটিয়ে পান করা এইসবের সাথে মানিয়ে নিতে আমার বেশ কষ্ট হয়েছিল। দুদিন পরে পরে পানি চলে যেত তাই হোটেল থেকে টাকায় এক গ্লাস করে পানি খেয়ে আসতাম। ভ্যাঁপসা গরমে ভীষণ তৃষ্ণা পেলে গরম পানি অত খাওয়া যায় নাকি! তার উপর বিস্বাদ পানির সাথে ছোটছোট কণা এইসব মিলিয়ে পানির ধারেকাছে খুব কম যাওয়া হতো। ফলে যা হবার তাই হলো, টাইফয়েড পেয়ে বসলো।
অনিমেষ আইচের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা "ভয়ংকর সুন্দর" দেখলাম। সুন্দর গল্পের জন্যে এর লেখক মতি নন্দীর প্রশংসা করি। গল্পটি দেখে ৬বছর পূর্বে আমার ঢাকার জীবনের কথা মনে পড়ে গেল। কিন্তু সিনেমা মানে তো আর শুধু গল্পকারের গল্প নয়। সিনেমার একটা আলাদা বয়ান রয়েছে। সেইখানে চরিত্রগুলোকে বিকশিত হতে হয়। গল্পকে শেষ পর্যন্ত কোন একটা গন্তব্যে নিতে হয়। অথবা এমন কোথাও নিয়ে গিয়ে থামিয়ে দিতে হয় যেটি অসমাপ্ত হয়েও সমাপ্ত হয়ে রয়।
এইসব বিবেচনায় অনিমেষ সফল হতে পারেননি। ভয়ংকর সুন্দরকে তিনি গল্পকারের গল্পের মতো বানিয়েছেন ঠিকই কিন্তু নিজের কোন সৃজনশীলতা রাখেননি মনে হয়েছে। তিনি নিজে কি গল্প বানিয়েছেন? প্রথমার্ধ? ওহ নো! কেন একজনকে খুন করিয়েছিলেন? গল্পের সাথে এই খুনের সম্পর্ক কি ছিল?
আর কত সহজে হোটেলের বেয়ারা নায়ক আর ধনীর দুলালি নায়িকার বায়বীয় ভাবে প্রণয় ঘটে গেল!
তারপর একটা দৃশ্যে দেখা গেল নায়কের অফিসের বস কত দয়ালু। কিন্তু আরেকটু পরেই বস ক্লিনবয়দের বাইঞ্চোদ বলে গালি দিতে শুরু করলো। এর দ্বারা পরিচালক কি বুঝাতে চাইলেন যে তিনি রীতিমত সাহসী সংলাপ ব্যবহার করাতে পারেন? হিহিহি।
আরেকটা দৃশ্যে দেখলাম প্লাস্টিক ব্যাগে করে নায়ক পানি নিচ্ছে। হঠাৎ ফুটবল পিঠে লেগে পানি পড়ে গেল। পুরনো নায়কদের খুবই কমন দৃশ্য- তার মায়ের জন্যে বোতল ভরে রক্ত নিয়ে যাবার কথা মনে পড়ে গেল।(ব্যাকগ্রাউন্ডে আ আ আ আ বাজবে।)
তারপরে রিকশাওয়ালা চাচ্চুর অথেনটিক অবদানের কথা কি করে ভুলি। নায়িকার জন্যে তিনি হোটেল ঠিক করে দেন, বস্তিতে ঘর ঠিক করে দেন।
কিন্তু শেষ দিকে গল্পটি জমেছিল বেশ। আসলে শেষ আধাঘণ্টাই ছিল মূলত এই পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমাটি যা একটি পরিপূর্ণ স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা হয়েছে। তবে ভাবনার অভিনয় শেষদিকে আর পরমের অভিনয় প্রথমদিকে ভাল হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি ভাল লেগেছে। কয়েকটি দৃশ্য, বিশেষ করে পানির হাহাকারের সময়ের অদ্ভুত দৃশ্যের সমাহার আর নায়িকার পানি আনতে যাবার কালে মার খাওয়ার দৃশ্যটি ভাল লেগেছে। এবং গানগুলোও সুন্দর হয়েছে। যদিও এত স্বল্প সময়ের ভিতরে পরপর তিনটে গানের প্লেসমেন্ট গল্পের প্রয়োজনের তুলনায় অহেতুক লেগেছে।
অনিমেষ আইচের পরবর্তী সিনেমার অপেক্ষায় রইলাম। শুভ কামনা তাকে।